১৯৭০ সালের আজকের দিনে জন্মগ্রহণ করেন তাকে একবিংশ শতাব্দীর অন্যতম প্রশংসিত এবং সফল চলচ্চিত্র নির্মাতা ক্রিস্টোফার এডওয়ার্ড নোলান। লন্ডনে জন্মগ্রহণ করা এই পরিচালক, প্রযোজক এবং চিত্রনাট্যকারের মা ক্রিস্টিনা নোলান ছিলেন একজন আমেরিকান বিমানবালা এবং বাবা ব্রেন্ডন নোলান  ছিলেন একজন বিজ্ঞাপন কপিরাইটার। জন্ম আর পিতামাতা সূত্রে তিনি ব্রিটিশ-আমেরিকান তিনি। ফলে তার শৈশব কেটেছে লন্ডন ও শিকাগোতে। ছোটবেলাতে অবশ্য উদ্ভিদবিদ্যাতেই নোলানের আগ্রহ ছিল বেশি । কিন্তু একদিন তিনি তার বাবার ক্যামেরাটি খুঁজে পান। তখন হয়তো কেউ ভাবেনি একুশ শতকের চলচ্চিত্র প্রেমিদের জন্য এই ক্যামেরা খুঁজে পাওয়ার ঘটনা এক  বিশাল আশীর্বাদ হতে চলেছে। তার বাবার সুপার ৮ ক্যামেরা নিয়ে খেলতে খেলতেই ক্যামেরা সম্পর্কে মোটামটি প্রাথমিক জ্ঞান লাভ করেন ক্রিস্টোফার। ১৯৭৭ সালে মুক্তি পাওয়া “স্টার ওয়ার্স” দেখে অনুপ্রানিত হয়ে তার ছোট খেলনা এ্যাকশন ম্যানদের নিয়ে মাত্র ৭ বছর বয়সে তৈরী করেন তার প্রথম চলচ্চিত্র।

ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডন থেকে ইংরেজি সাহিত্যে অধ্যাপনা শেষ করে চলচ্চিত্র তৈরীর সুবিধার জন্য নোলান একই কলেজকে বেছে নেন তার । ১৯৯৩ সালে তিনি ছবি তৈরীর উপর স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন।

২০০০ সালে সাইকোলিজিকাল থ্রিলার চলচ্চিত্র “মেমেনটো” দিয়ে বিশ্বময় পরিচিতি অর্জন করেন নোলান।চলচ্চিত্রটিতে এমন একজন ব্যক্তির উপর ছিল যে অ্যান্ট্রোগ্রেড অ্যামনেসিয়ায় ভুগছে।  যদিও ক্রিস্টোফার নোলান ১৯৯৮ সালে তৈরী করেন তার প্রথম ফিচার ফিল্ম ‘ফলোয়িং’। ছবিটির বাজেট ছিল মাত্র ৩ হাজার পাউন্ড। ছবিটির স্ক্রিপ্ট নোলানের নিজের লেখা ছিল যার সিনেমাটোগ্রাফি আর এডিটও তিনি নিজেই করেছিলেন। ১৯৯৮ সালে সান ফ্রান্সিসকো ফিল্ম ফেস্টিভেলে ছবিটি প্রদর্শিত হবার পর তা সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে থাকে।

নোলান তার দ্বিতীয় চলচ্চিত্র মেমেন্টো  দিয়ে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি লাভ করার পর এর জন্য তিনি শ্রেষ্ঠ মৌলিক চিত্রনাট্যের জন্য একাডেমি (অস্কার) পুরস্কারের জন্য মনোনীত হন। এরপর ২০০২ সালে তার পরিচালনায় নির্মিত হয় একটি হত্যাকাণ্ডের তদন্তকারী দুজন গোয়েন্দা নিয়ে চলচ্চিত্র ইনসোমেনিয়া।  দ্য ডার্ক নাইট ট্রিলজি  র প্রথম চলচ্চিত্র ২০০৫ সালের সুপারহিরো ছবি ‘ব্যাটম্যান বিগিন্স’ পরিচালনা করার সময় নোলানের জনপ্রিয়তা নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছিল। এটি বিখ্যাত ‘ডিসি কমিকস’ সুপারহিরো ব্যাটম্যানের উপর ভিত্তি করে তৈরি হয়েছিল। ছবিটি একটি বিশাল সাফল্য পেয়েছিল এবং একটি ‘অস্কার’ মনোনয়ন পেয়েছিল।

এছাড়াও দ্য প্রেস্টিজ এবং ইনসেপশন সহ আরও চলচ্চিত্রে সমালোচকদের এবং বাণিজ্যিক সাফল্য পেয়েছিলেন, যার মধ্যে আটটি অস্কার মনোনয়ন পেয়েছিল, সেরা ছবি এবং সেরা মৌলিক চিত্রনাট্যের জন্য। এর পরে ছিল ইন্টারস্টেলার (2014), ডানক্রিক (2017)।তিনি ডানকির্কে তাঁর কাজের জন্য সেরা চলচ্চিত্র  এবং সেরা পরিচালকের হিসেবে একাডেমি (অস্কার) পুরস্কারের জন্য মনোনীত হন।

টেনেট  ২০২০ সালে মুক্তি পায় যা একটি সাইন্স ফ্রিকশন অ্যাকশন-থ্রিলার চলচ্চিত্র। এটি রচনা ও পরিচালনা করেছেন ক্রিস্টোফার নোলান নিজেই,  যুক্তরাজ্য এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সহ-প্রযোজনায় নির্মিত চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন জন ডেভিড ওয়াশিংটন, রবার্ট প্যাটিনসন, এলিজাবেথ ডেবিকি, ডিম্পল কপাড়িয়া, মাইকেল কেইন এবং কেনেথ ব্র্যানা। চলচ্চিত্রের কাাহিনীতে দেখা জায় একজন গোপন প্রতিনিধিকে (ওয়াশিংটন) অনুসরণ করে কারণ তিনি তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ প্রতিহত করতে সময়ের প্রবাহকে হেরফের করেন।

TENET movie poster
TENET movie poster

এক দশক ধরে টেনেটর কেন্দ্রীয় ধারণাগুলি নিয়ে আলোচনার পরে চিত্রনাট্য রচনায় নোলান পাঁচ বছরেরও বেশি সময় নিয়েছিলেন। ২০১৯ সালের মার্চে এর কাস্টিং শুরু হয়েছিল, এবং মে মাসে ডেনমার্ক, এস্তোনিয়া, ভারত, ইতালি, নরওয়ে, যুক্তরাজ্য, এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন স্থানে প্রধান চিত্রগ্রহণের কাজ শুরু করা হয়। সময় হেরফেরের দৃশ্যগুলি সামনে-পেছনে উভয় দিকেই ধারণ করা হয়েছিল। এতে একশো জলযান সহ কয়েক হাজার এক্সট্রা আর্টিস্ট ব্যবহার করা হইয়েছিল।

ক্রিস্টোফার নোলানের সিনেমাটিক সৌন্দর্যের জন্য তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রয়েছে, কিন্তু এই পরিচালক লাল/সবুজ বর্ণান্ধ।
চলচ্চিত্র পরিচালক ব্রায়ান বার্নস বলেন,

“হ্যাঁ, তিনি অবশ্যই লাল-সবুজ রঙের বর্ণান্ধ। ৯০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়ে যখন তিনি আমার ক্যামেরা অপারেটর হিসেবে আমার জন্য কাজ করতেন, তখন আমাদের ক্যামেরার ব্যাটারির জন্য একটি ব্যাটারি চার্জিং ইউনিট ছিল যার উপর একটি লাল-সবুজ LED নির্দেশক আলো ছিল। যখন সেটিতে ব্যাটারি চার্জ হয়, তখন LED সবুজ আলো জ্বলজ্বল করে এবং যখন সেটিতে ব্যাটারি চার্জ হয় না, তখন সেটি লাল আলো জ্বলে। ক্রিস যেহেতু পার্থক্যটা বলতে পারছিল না, আমরা প্রায়ই এমন ব্যাটারি শেষ করে ফেলি যা সঠিকভাবে চার্জ করা হয়নি। কারণ সে সুইচটি ভুল অবস্থানে রেখেছিল। পরে আমি তাকে ব্যাটারি চার্জ করা বন্ধ করতে বলি এবং ব্যাটারি চার্জের কাজটি আমি নিজ হাতেই করি।”

ক্রিস্টোফার নোলানঃ সাইন্স ফ্রিকশনের রঙিন দুনিয়া দেখানো একজন বর্নান্ধ।

Brian Barnes, Director of ‘The Redeeming’

ক্রিস্টোফার নোলান ছাড়াও বিশ্বের বিখ্যাত ব্যাক্তিবর্গের মধ্যে অনেকেই বর্ণান্ধতায় আক্রান্ত। এই তালিকায় আছেন মার্ক জুকারবার্গ, মার্ক টোয়েন, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

আরো পড়ুনঃ লালার মাধ্যমে হবে ব্যাথামুক্ত ডায়াবেটিস পরীক্ষা। Painless Salivary Diabetics Test

আরো পড়ুনঃ হলি আর্টিসান: “শনিবার বিকেল”-এর মুক্তি থামানো গেলেও কি হবে “ফারাজ” এর?

আপনার মন্তব্য জানাবেন

দয়া করে আপনার মন্তব্য লিখুন !
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন