পৃথিবীর ফুসফুস আমাজন নিঃশেষ আশঙ্কা।

দক্ষীন আমেরিকায় অবস্থিত আমাজন বন পৃথিবীর সবচেয়ে বড় বন। আমাজন নদীই এর জীবনীশক্তি। আমাজন বন ৯ টি ভিন্ন দেশের প্রায় ৫৫,০০,০০০ বর্গ কিলোমিটার কিংবা ২১,০০,০০০ বর্গ মাইল ব্যাপক জায়গা জুড়ে বিস্তৃত। বাংলাদেশের তুলনায় ৩৮

গুন বড় এই বনের ৬০ শতাংশ শুধুমাত্র ব্রাজিলেই অবস্থিত।

আমাজন
আমাজনে প্রায় ৪০ হাজার জাতের উদ্ভিদ, ১৩০০ জাতের পাখি, ২২০০ জাতের মাছ, ৪২৭ জাতের স্তণ্যপায়ী, ৩৭৮ জাতের সরীসৃপ, ৪২৮ জাতের উভছর প্রাণি এবং ২৫ লক্ষ জাতের পোকামাকড় আছে

আমাজনের প্রাণী ও উদ্ভিদকুলের মধ্যে রয়েছে অবিশ্ব্যেস্য বৈচিত্র। আমাজন বণে আছে প্রায় ৪০ হাজার জাতের গাছ, ১৩০০ জাতের পাখি, ২২০০ জাতের মাছ, ৪২৭ জাতের স্তণ্যপায়ী, ৩৭৮ জাতের সরীসৃপ, ৪২৮ জাতের উভছর প্রাণি এবং ২৫ লক্ষ জাতের পোকামাকড়। এদের মধ্যেই অনেক বিষাক্ত জাতের প্রাণী আছে যা অত্যন্ত ক্ষতিকর। আমাজন নদী বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম নদী। এটি দক্ষীণ  আমেরিকার টি দেশ পাড়ি দিয়ে আটলান্টিক মহাদেশে মিলিত হয়।

ব্রাজিলের আমাজনের বুকে অনেক বৃত্তাকার নকশা দেখতে পাওয়া যায়। ধারনা করা হয় এগুলো প্রাচীনকালে সমাধিক্ষেত্র বা সুরক্ষাক্ষেত্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়। আমাজনের মধ্যে দিয়ে একটি ফুটন্ত নদী বয়ে যায়। যাতে পানি অনেক উষ্ণ হয়ে থাকে। নদীটিতে পানির তাপমাত্রা প্রায় ৯৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত হয়ে থাকে।

আমাজনের বৃক্ষরাজ্য পৃথিবীএর অক্সিজেনের প্রায় ২০ শতাংশ চাহিদা পুরণ করে। একারনেই আমাজন পৃথিবীর ফুস্ফুস বলে বিবেচিত। কালের পরিক্রময় আমাজনের আমাজনে দ্রুত বন উজার হচ্ছে।

আমাজন বনের সাথে মানবকুলের সম্পর্ক বেশ পুরোনো। এখানে মানবকুল বস্তি স্থাপন করেছিল নদী ঘেষা অঞ্চল গুলোতে। মাছ ধরা এবং কৃষির মাধ্যমেই তারা তাদের জীবিকা নির্বাহ করতো। বর্তমানে ভিন্ন সংস্কৃতির প্রায় ২ কোটি জনগোষ্ঠী আমাজনে বসবাস করে। আমাজন অঞ্চলে ইউরোপীয়দের আগমনের পর থেকেই এর জীববৈচিত্রে ব্যাপক ধরণের পরিবর্তন লক্ষ করা গেছে। তাদের আগমণের পুর্বে আমাজনে বসবাসরত আদিবাসিদের দ্বারা বনের কোনো ক্ষতিসাধন হওয়ার ঘটনা পাওয়া যায় না। আমাজনে বিপুল ধরণের আদিবাসী জনগোষ্ঠী বাস করে। তবে ধারনা করা হয় এদের মধ্যে অন্তত ৫০ টি আদিবাসী গোষ্ঠির সাথে পৃথিবীর সভ্য সমাজের কোনো সম্পর্ক নেই।

আমাজন
ব্রাজিলে গত কয়েকবছর ধরে দাবানলের মাধ্যমে বন উজার হচ্ছে

ব্রাজিলে গত কয়েকবছর ধরে দাবানলের মাধ্যমে বন উজার হচ্ছে।২০১৯ সালে আমাজনে যতগুলো অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে, আর কখনো তা হয়নি। বিশ্বের সবচেয়ে বড় এই রেইনফরেস্টে কৃষি ও খনিসংক্রান্ত কাজের প্রসার বাড়ায় এমনতা হচ্ছে। বিগত পঁচিশ বছরে আমাজনের মূল আয়তনের প্রায় ১৭% হারিয়ে গেছে।ব্রাজিলে আমাজন বন ধ্বংস অনেক আগে থেকেই চলছে। বিজ্ঞানীরা মনে করেন এভাবে বৃক্ষ নিধণ চলতে থাকলে আগামী ৫০ বছরের মধ্যেই আমাজন বন বিলীন হয়ে যাবে। এর ফলে বিশ্ব উষ্ণায়নেও এর বিরুপ প্রভাব পরবে। তাই তো এখন আমাজন বন রক্ষায় ভেন্টিলেটরের খুবই প্রয়োজন।

আপনার মন্তব্য জানাবেন

দয়া করে আপনার মন্তব্য লিখুন !
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন