বাংলাদেশের একমাত্র কৃত্রিম নৌপথ গাবখান চ্যানেল এবং এটি দক্ষিণ অঞ্চলের একমাত্র আন্তর্জাতিক নৌ-পথ। ভারতের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক বৃদ্ধির জন্য ১৯১২ সালে ব্রিটিশরা ঝালকাঠি পৌর শহরের গাবখান থেকে পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলার আমড়াঝড়ি পর্যন্ত খনন করে। এর ঝালকাঠি

অংশে সুগন্ধা, বিষখালী ও ধানসিঁড়ি নদীর মোহনা এবং পিরোজপুর অংশে কচা নদী। এর দৈর্ঘ্য ১৮ কিলোমিটার।

বাংলার সুয়েজ খাল খ্যাত গাবখান চ্যানেল সম্পর্কে জেনে নিন
গাবখান চ্যানেল

শুরুতে ২০ মিটার গভীর করে চ্যানেলটি তৈরি করা হয়। এর প্রস্থ আনুমানিক ২০০ মিটার। আন্তর্জাতিক নৌপথের অংশ এই গাবখান চ্যানেল। তিন নদীর মোহনা ও সবুজ গাছগাছালির ভেতর বহমান এই চ্যানেলের সৌন্দর্য পর্যটকদের মুগ্ধ করে ।এটি ঝালকাঠির বিষখালী, সুগন্ধা থেকে পিরোজপুরের কচা, সন্ধ্যা নদীর সঙ্গে সংযুক্ত।
১৯৫০ সালে মোংলা বন্দর প্রতিষ্ঠার পর এটি আন্তর্জাতিক নৌপথ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, আসাম ও মেঘালয়ের সঙ্গে বাংলাদেশের নৌ-যোগাযোগে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা ১৮ কিলোমিটার দীর্ঘ এই নদ দিয়ে প্রতিদিন পণ্য ও যাত্রীবাহী দেশি-বিদেশি ১০০ থেকে ১২০টি জাহাজ চলাচল করে।

কৃত্রিম এ চ্যানেল দিয়ে প্রতিদিন ভারতীয় ও যাত্রীবাহী ঢাকা-খুলনার জাহাজ চলাচল করে। এমনকি চট্টগ্রাম থেকে মংলা, যশোর, খুলনা, নওহাটা ও বেনাপোলে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল করে। বাংলাদেশ থেকে নদীপথে ভারত যাতায়াতের পথ হিসেবেও এটি ব্যবহৃত হয়। চ্যানেলটি খননের ফলে ঢাকা-খুলনার দূরত্ব ১১২ কিলোমিটার কমে আসে।

20210805 192745

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ – বি আই ডাব্লিউ টি এ – এর কর্মকর্তা জনাব শেখ ফরিদ আহমেদ সংবাদ পড়ুন কে জানান,

“মানুষের তৈরী বাংলাদেশের অভ্যন্তরে নৌপথের একমাত্র চ্যানেল এই গাবখান চ্যানেল। ১৮ কি.মি এর এই চ্যানেল দক্ষিণবঙ্গের সাথে দেশের অন্যান্য অঞ্চলের ব্যবসা ও যোগাযোগের জন্য প্রায় একশত বছর আগে নেওয়া এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ ছিলো। এই শতবর্ষী চ্যানেলের সুবিধা আমরা এখনো ভোগ করছি। বাংলাদেশের সুয়েজ ক্যানেল হিসাবে পরিচিত এই ক্যানেল দিয়ে দৈনিক কয়েক হাজার পণ্যবাহী নৌযান যাতায়াত করে। তবে সমসাময়িক সময় চ্যানেলের বিভিন্ন অংশে নাব্যতা সংকট দেখা দিয়েছে। সরকার এই জাতীয় সম্পদ রক্ষার জন্য প্রতিনিয়ত কাজ করে যাচ্ছে।”

বাংলার সুয়েজ খাল খ্যাত গাবখান চ্যানেল সম্পর্কে জেনে নিন।
গাবখান সেতু।

জেলার মাঝখান দিয়ে বয়ে চলা গাবখান চ্যানেলের উপর নির্মিত এই সেতু টির নাম
৫ম বাংলাদেশ-চীনমৈত্রী সেতু। তবে এটি গাবখান সেতু হিসেবেই পরিচিত। এ সেতুর নির্মাণশৈলী একে দেশের অন্যান্য সেতু থেকে আলাদা করেছে। একইসাথে এটি বাংলাদেশের উচ্চতম সেতু। বি আই ডাব্লিউ টি এ-র তথ্যানুযায়ী এর ক্লিয়ারেন্স ১৮.৩০ মিটার। যা দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা শিকরপুর ব্রিজ (১২.২০) এর চেয়ে প্রায় ৬ মিটার বেশী।

আরো পড়ুন: ঢাকার সর্বপ্রথম মসজিদ সম্পর্কে জেনে নিন।

আরো পড়ুন: ফ্লাইট ৪৭২: হাইজ্যাক হওয়া জাপানি বিমানের ঢাকায় ৫ দিন!!

আপনার মন্তব্য জানাবেন

দয়া করে আপনার মন্তব্য লিখুন !
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন