দক্ষিণাঞ্চলের অক্সফোর্ড বি. এম. কলেজ এর অতীত এবং বর্তমান

বি. এম. কলেজ! দক্ষিণাঞ্চলের অক্সফোর্ড বলা হত একসময়। দক্ষিণাঞ্চলের সেরা কলেজ এখনো। এক সময় বাংলাদেশের সবচেয়ে নামকরা গুটি কয়েকটি কলেজের মধ্যে এটি একটি।

১৪ জুন হাজার ১৮৮৯ সালে ‘অশ্বিনী কুমার দত্ত’ ব্রজমোহন কলেজের প্রতিষ্ঠা করেন যা তার বাবা বজ্রমোহন দত্তের নামে নামকরণ করা হয়। কলেজটির প্রথম প্রিন্সিপাল ছিলেন বাবু জ্ঞানচন্দ্র চৌধুরী

১৯৯৮ সালে কলেজটি “দ্বিতীয় গ্রেড” এর কলেজ থেকে “প্রথম গ্রেড” কলেজে উন্নীত হয়। ১৯২২ সালে কলেজটিতে ‘কলকাতা ইউনিভার্সিটি’ র অধীনে ইংলিশ এবং ফিলোসফিতে অনার্স কোর্স শুরু করে।

১৯৪৭ সালের ভারত এবং পাকিস্তানের বিভক্তির পর কলেজটিকে ঢাকা ইউনিভার্সিটির অধীনে নেয়া হয়। তখন কলকাতা ইউনিভার্সিটির অধীনে থাকা দুই বছরের অনার্স কোর্স ঢাকা ইউনিভার্সিটির অধীনে তিন বছরের অনার্স কোর্সে পরিণত হয়।

প্রতিষ্ঠানটিতে বর্তমানে ২০ টি ডিগ্রী কোর্স, ১৮ টি অনার্স কোর্স এবং ১৯ টি মাস্টার্স কোর্স রয়েছে। এখানে চারটি ফ্যাকাল্টির আন্ডারে অধীনে 22 টি ডিপার্টমেন্ট রয়েছে। ফ্যাকাল্টিগুলো হলোঃ Faculty of Arts, Faculty of Business Studies, Faculty of Science, Faculty of Social Sciences.

কলেজের বিখ্যাত ব্যক্তিত্ব:

প্রতিষ্ঠানটি থেকে অনেক মুক্তিযোদ্ধা আমাদের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে যুদ্ধ করেছেন। এর মধ্যে রয়েছেন বীরশ্রেষ্ঠ মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর। এছাড়া আরো ২৪ জন মুক্তিযোদ্ধার নাম পাওয়া যায় কলেজটিতে।

বি. এম. কলেজ থেকে অংশ নেয়া মুক্তিযদ্ধাগণ
বি. এম. কলেজ থেকে অংশ নেয়া মুক্তিযদ্ধাগণ

জীবনন্দদাস, আলতাফ মাহমু্‌দ,  নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়, আহসান হাবি্‌ মিজানুর রহমান খান, হাফিজ আহমেদ মজুমদার সহ অনেক বিখ্যাত ব্যক্তিত্ব এই কলেজে পড়াশোনা করেছেন। কলেজটিতে একসময় জীবনানন্দ দাশ ইংলিশের টিচার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

৬০ হাজারের বেশি এলাকা জুড়ে বিস্তৃত কলেজটিতে বর্তমানে ৩০ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী রয়েছেন। ১৯৬৫ সালে কলেজটিকে জাতীয়ভুক্ত করা হয়। কলেজটিতে ছাত্রদের জন্য ৫ টি হোস্টেল এবং মেয়েদের জন্য ১ টি হোস্টেল রয়েছে। এছাড়া রয়েছে একাধিক পুকুর। কেন্দ্রীয় লাইব্রেরীতে বইয়ের সংখ্যা প্রায় ৪০ হাজার।

প্রতিষ্ঠান টি বর্তমানে কো-কারিকুলার অ্যাকটিভিটিসেও সমান তালে এগিয়ে। ডিবেটিং ক্লাব, ইংলিশ ল্যাঙ্গুয়েজ ক্লাব, রোভার- স্কাউট প্রভৃতিতে এর অংশগ্রহণ উল্লেখযোগ্য।

কলেজটির শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, এখানে পড়া প্রত্যেক শিক্ষার্থীর কাছে কলেজটি সারা জীবন একটি গর্বের বিষয় হয়ে থাকে।

আরো পড়ুনঃ ভূমিকম্পের আগাম সংকেত যেভাবে পায় জন্তুরা

আরো পড়ুনঃ দানবগর্তঃ বিশ্বের নতুন এক আতঙ্কের নাম

আরো পড়ুনঃ দেশ নিয়ে পরিভাষা – 200 Countries and Their nicknames!

আপনার মন্তব্য জানাবেন

দয়া করে আপনার মন্তব্য লিখুন !
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন