বুধবার, মে ১৮, ২০২২

খাদ্য সংকট মেটাতে ‘মহাজাগতিক চাল’ উৎপাদনের চেষ্টা চীনের

‘মহাজাগতিক চাল’ বাজারে আনতে চলেছে চীন ! খাদ্য সঙ্কট দূর করতে পারে পৃথিবীর সাথে মহাকাশকেও জুড়তে চায় দেশটি।

কী এই মহাজাগতিক চাল?  

মহাকাশে বহুদিন ধরেই বিভিন্ন বীজ পাঠাচ্ছে চীন। এর পেছনের মূল উদ্দেশ্য হলো মিউটেশন ঘটানো। ভারহীন অবস্থায় এবং বিকিরণের ফলে এমন মিউটেশন ঘটতে পারে যা থেকে বদলে যেতে পারে বীজের চরিত্র। তার থেকে হওয়া গাছে হতে পারে বেশি ফলন।

গত বছর চীনের চ্যাঙ-৫ মহাকাশযানে করে মহাকাশে পাঠানো হয়েছিল ৪০ গ্রাম ধানের বীজ। চন্দ্রযানটি ২৩ দিন ধরে চাঁদকে প্রদক্ষিণ করে, সেই সঙ্গে করে ওই ধানের বীজও। চীনের বিজ্ঞানীরা দেখতে চেয়েছিলেন, মহাকাশে তার ওপর আলাদা কী প্রভাব পড়ে, কীভাবে তাতে সালোকসংশ্লেষ ঘটে। এই গবেষণার নেপথ্যে ছিল গুয়াংডং প্রদেশের সাউথ চায়না ইউনিভার্সিটি।

বিজ্ঞানীরা দেখেছেন, মহাকাশে থাকায় একপ্রকার মিউটেশন ঘটেছে বীজগুলোতে। তা পৃথিবীর মাটিতে রোপণ করলে ভাল সাড়াও দিচ্ছে। এ থেকে সাধারণের তুলনায় ভাল ফসল পাওয়া যাবে বলে বিশ্বাস বিজ্ঞানীদের। তাঁরা মনে করছেন, চার বছরের মধ্যেই বাজারে আনা যাবে এই ‘স্পেস-রাইস’। খাদ্য সঙ্কট মেটাতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা এটি বলে মনে করা হচ্ছে। তবে এই প্রথম নয়, খাদ্যশস্য এবং ফলের বীজ এর আগেও মহাকাশে পাঠিয়েছে চীন। এর আগে চ্যাঙ-৪ এর ল্যান্ডারে চেপে চাঁদে পাঠানো হয়েছিল তুলার বীজ এবং টমেটোর চারা। তুলার বীজগুলিতে মাঝেমধ্যে জলের ছিটেও দিয়েছিলেন বিজ্ঞানীরা। মহাকাশেই সেই বীজ থেকে প্রচুর তুলো বেরিয়ে আসে। ১৯৮৭ সাল থেকে এ ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালাচ্ছে চীন। এ পর্যন্ত প্রায় ২০০ রকম বীজ পাঠানো হয়েছে মহাকাশে।

২০১৮ সালের সরকারি রিপোর্ট অনুযায়ী, ২ দশমিক ৪ মিলিয়নেরও বেশি হেক্টর জুড়ে এ মহাজাগতিক বীজ থেকে চাষ করছে চীন। চীনা মিডিয়ায় এ ধানের নাম দেওয়া হয়েছে স্বর্গীয় চাল বিজ্ঞানী ধারনা করছেন চার বছরের মধ্যেই বাজারে আনা যাবে এই ‘মহাজাগতিক চাল’।

Similar Articles

Comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Advertismentspot_img

Instagram

Most Popular