২০১২ অনুর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে বাংলাদেশ টুর্নামেন্ট শেষ করেছিল সপ্তম হয়ে। কিন্তু ৩৬৫ রান নিয়ে টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ রানসংগ্রাহক ছিলেন বিজয়। এমনকি তার পেছনে ছিলেন বর্তমান সময়ের অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যান বাবর আজম।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের সাথে ওয়ানডে অভিষেক হলে পারফর্ম্যান্সের কারণে সকলের প্রশংসায় ভাসতে থাকেন বিজয়। ২০১২ থেকে ২০১৫ পর্যন্ত একবারের জন্যও পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি থাকে। নিয়মিত রান না করলেও প্রায়ই ভালো ইনিংস উপহার দিতেন তিনি। কিন্তু ২০১৫ বিশ্বকাপে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচে ফিল্ডিং করার সময় হাতে মারাত্মক আঘাত পান বিজয়। ফলে তার বিশ্বকাপ যাত্রা সেখানেই শেষ হয়ে যায়।

হাতের সেই ইঞ্জুরির পর আর কোনোদিনই নিয়মিত ভাবে জাতীয় দলে খেলার সুযোগ পাননি বিজয়। যে কয় ম্যাচ খেলার সুযোগ পেয়েছেন তিনি, তাতে তার পারফর্ম্যান্স ও বলার মত কিছু নয়।জানুয়ারী ২০১৮ সালে শ্রীলংকার বিপক্ষে ৩ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে ডাক পান বিজয়। বড় কোনো ইনিংস খেলতে না পারলেও স্পর্শ করেন এক মাইলফলক। একদিনের ক্রিকেটে বাংলাদেশী ব্যাটসম্যান হিসেবে সবচেয়ে কম ম্যাচ (২৯ ম্যাচ) খেলে ১০০০ রান করার মাইলফলক অতিক্রম করেন তিনি। এর আগে এই রেকর্ডের একমাত্র অংশীদার ছিলেন বর্তমান সিলেক্টর শাহরিয়ার নাফিস। সর্বশেষ ২০১৯ সালে শ্রীলঙ্গার বিপক্ষে ৩ ম্যাচের ওয়ান্ডে সিরিজে দলে ডাক পান বিজয়। প্রথম ২ ম্যাচ খেলার সুযোগ না পেলেও ৩য় ম্যাচে খেলেন তিনি। ২৪ বল খরচ করে সংগ্রহ করেন ১৪ রান। ওপেনারদের ব্যাটিং ব্যার্থতার পর মিডেল অর্ডারের ব্যাটসম্যানরাও উল্লেখযোগ্য সংগ্রহ করতে ব্যার্থ হলে মাত্র ৩৬ ওভারে অলআউট হয় বাংলাদেশ। ফলে ১২২ রানের বিরাট ব্যাবধানে ম্যাচ হারে বাংলাদেশ [ম্যাচ রিপোর্ট]।

তবে ঘরোয়া লীগে নিয়মিত না হলেও প্রায়ই খেলেন বড় ইনিংস। নিয়মিত না হওয়ার তার এই সমস্যা তার ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই। কিন্তু এখন তার সাথে যুক্ত হয়েছে বাজে ফুট ওয়ার্ক। যার ফলে নিজের ইচ্ছে অনুযায়ী ফিল্ডারদের গ্যাপ বল পাঠাতে পারেন না। দ্রুত স্টাইক রোটেট না করতে পারায় খেলেন প্রচুর ডট বল। কিন্তু এখনো বাজে বল পেলেই তার ক্যারিয়ারের শুরুর মত দৃষ্টিনন্দন শট খেলে মুগ্ধ করেন সবাইকে। ঢাকা প্রিমিয়ার লীগের গত আসরে প্রিমিয়ার ব্যাংকের হয়ে খেলেছেন এনামুল হক বিজয়।  এক ম্যাচে ৬৯ রান ছাড়া বলার মত কোনো অর্জন নেই। আগে ‘এ’ দল কিংবা এইচ পি দলের বিবেচনায় থাকলেও এখন সেখানেও দেখা যায় না এনামুল হক বিজয়কে।

এর আগেও গত ফেব্রুয়ারী মাসে মাস্কো ক্রিকেট একাডেমীতে প্রাকটিস করার সময় হাতে ইঞ্জুরির শিকার হন তিনি। পরে অবশ্য রিকভারি করে ফিয়ে আসেন ঢাকা পিমিয়ার লীগে। কিন্তু সম্প্রতি আবার হাতের ইঞ্জুরির কবলে পড়েছেন বিজয়। ফলে করতে হয়েছে বাম হাতের অস্ত্রোপচার। এভারকেয়ার হাসপাতালে (সাবেক এপোলো হাসপাতাল) তার হাতের সফল অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়। ৭ সেপ্টেম্বর, মঙ্গলবার তার অফিসিয়াল ফেইসবুক পেইজ থেকে অস্ত্রোপচার ব্যাপারে নিশ্চিত করেছেন বিজয়। পাশাপাশি ধন্যবাদ দিয়েছেন বিসিবি এবং বিসিবি’র চিকিৎসক দেবাশীস চৌধুরিকে। বলেছেন আগের চেয়ে এখন ভালো বোধ করছেন। খুব দ্রুতই মাঠে ফিরবেন তিনি।হাতের ইঞ্জুরি ও একজন এনামুল হক বিজয়।

অনেকের মতে বাজে ফুটওয়ার্কের কারণের বারবার তার এই ইঞ্জুরি। প্রিমিয়ার লীগ চলাকালীন সময়েও তাকে হাতে ব্যাথা পেতে দেখা গিয়েছে। মূলত সঠিক সময় বলের লাইন থেকে নিজেকে সরিয়ে নিতে পারছেন না এনামুল। ফলে বল আঘাত করছে তার বাম হাতে। তবে ইঞ্জুরি থেকে ফিরে এসে আবার নিয়মিত হবেন বলে আশা তার অনেক ভক্তের।
আরো পড়ুনঃ বাংলাদেশের টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপ দল ঘোষনা, বাদ পড়েছে তামিম ইকবাল

আপনার মন্তব্য জানাবেন

দয়া করে আপনার মন্তব্য লিখুন !
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন