সোমবার, জুন ২৭, ২০২২

“আগামী দিনে বাংলাদেশের ই-কমার্স পৃথিবীতে উদাহরণ তৈরি করবে” – লাইভে ইভ্যালির সিইও

দেশের বর্তমান সময়ের আলোচিত ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী মোহাম্মদ রাসেল বৃহস্পতিবার রাত ১১ টায় লাইভে আসেন। ইভ্যালির বর্তমান কর্মপরিকল্পনা এবং ডেলিভারি সিস্টেমের তথ্য শেয়ার করেন তিনি।

লাইভের শুরুতেই ইভ্যালির সিইও বলেন,

“আমরা একটি সমস্যার মধ্য দিয়ে যাচ্ছি।রেগুলার কমিটমেন্ট টাইমের মধ্যে আমরা ডেলিভারী দিতে পারছি না। এটি শিকার করতে আমাদের কোনো অসুবিধা নেই।”

ডিসকাউন্টের সমালোচনার জবাব দিয়ে তিনি বলেন,“ডিসকাউন্ট হচ্ছে ই-কমার্সের পার্ট অফ জার্নি।ই-কমার্স ডেভেলপমেন্টের জন্য ডিসকাউন্ট একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।ফান্ড রেইজ করে এই ডিসকাউন্টের ক্ষতি রিকভার করা হবে।”

বানিজ্য মন্ত্রনালয়ের ই-কমার্সের জন্য গৃহীত নতুন নীতিমালাকে সাধুবাদ জানালেও এটি কিছু সমস্যা তৈরি করছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।এ প্রসঙ্গে তাঁর বক্তব্য,

“আমরা বানিজ্য মন্ত্রনালয়ের এই পদক্ষেপকে সাধুবাদ জানাই।তবে সমস্যা তৈরি হচ্ছে যেহেতু ই-কমার্সের নীতিমালা নতুন আঙ্গিকে প্রয়োগ হচ্ছে।যার ফলে ই-কমার্সের প্রতিটি স্টেপে সাময়িক ভীতি তৈরি হচ্ছে।রেভিনিউ ড্রপ হওয়াতে একটি অসামঞ্জস্যতা সৃষ্টি হয়েছে। বিজনেজ প্ল্যানে এভাবে পরিবর্তন আসবে তা ইভ্যালি বুঝতে পারেনি। পরিবর্তন হঠাৎ আসাতে ই-কমার্সের সবাই একটা চ্যালেঞ্জের মধ্যে পড়েছে।ফলে ডেলিভারি সিস্টেমে সাময়িক কিছুটা গতি কমেছে”।

ইভ্যালিতে এক হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করতে যাচ্ছে দেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় শিল্প প্রতিষ্ঠান যমুনা গ্রুপ। প্রাথমিকভাবে ২০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করবে যমুনা। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “যমুনা গ্রুপের বিনিয়োগে অনেক পেপার ওয়ার্কের বিষয় আছে। বিনিয়োগ পাওয়ার পর সাপ্লাই চেইন অনেক বেশি ফাস্ট হবে।”

নিজের দেশ ত্যাগের শঙ্কাকে উড়িয়ে দিয়ে মো.রাসেল বলেন,“আমি পার্সোনাল এমন কোনো এসেট তৈরি করিনি যাতে আমি দেশ ছেড়ে পালাবো।আমার লাইফে লাক্সারী বলে কিছু নেই।আমার ব্যবহার করা গাড়িটাও অফিসিয়াল গাড়ি।”

এত প্রতিবন্ধকতার মধ্যেও ইভ্যালির সিইও আশাবাদ ব্যক্ত করেন দ্রুতই এই সমস্যাগুলো কেটে যাবে।আর এরপর যা হবে সেটি দেখার জন্য তিনি অনেক বেশি উচ্ছ্বসিত।তিনি বলেন,

আড়াই বছরে ইভ্যালির যে বিজনেস ডেভলপমেন্ট হয়েছে তা আর কারো নেই।আগামী দিনে বাংলাদেশের ই-কমার্স পৃথিবীতে উদাহরণ তৈরি করবে।”

স্বাস্থ্যবিধি মেনে আগামী রবিবার (২২ আগস্ট) থেকে ইভ্যালি অফিস সম্পূর্ণভাবে খোলা থাকবে ও পূর্ণ শক্তিতে কার্যক্রম চলতে থাকবে । সরাসরি কাস্টমার সার্ভিস এর জন্য অনলাইন এপয়েন্টমেন্ট নেওয়ার অনুরোধ করেছেন তিনি। এ বিষয়ে তিনি বলেন,  “রবিবার থেকে ইভ্যালির অফিস খুলবে। এপয়েন্টমেন্টের ভিত্তিতে দৈনিক ৫০০ জন অফিসে এসে সার্ভিস নিতে পারবেন।”

ইভ্যালির বিরুদ্ধে কিছু মিডিয়া কর্মীদের ষড়যন্ত্রের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ” কিছু মিডিয়া কর্মী পরিকল্পিতভাবে আমাদের নেগেটিভ দিকগুলো তুলে ধরার চেষ্টা করছে।আগামী রবিবারও অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটানোর জন্য তারা চেষ্টা করবে।তাই আপাতত আপনারা এপয়েন্টমেন্ট ব্যতীত কেউ অফিসে আসবেন না।দল বেধে এসে ম্যানেজমেন্টকে প্রেশার দিয়ে কিছু পাওয়ার আর সুযোগ নেই।”

বাংলাদেশ ব্যাংকের এক প্রতিবেদনে জানানো হয় ইভ্যালি’র মোট দায় ৪০৭ কোটি টাকা। প্রতিষ্ঠানটি গ্রাহকের কাছ থেকে অগ্রিম নিয়েছে ২১৪ কোটি টাকা, মার্চেন্টদের কাছ থেকে বাকিতে পণ্য নিয়েছে ১৯০ কোটি টাকার। স্বাভাবিক নিয়মে প্রতিষ্ঠানটির কাছে কমপক্ষে ৪০৪ কোটি টাকার চলতি সম্পদ থাকার কথা। কিন্তু সম্পদ আছে মাত্র ৬৫ কোটি টাকার।

Related Articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisement -

Latest Articles