আচ্ছা, ওয়াল্ড ওয়াইড ওয়েব (WWW) কী?

-WWW হলো একটি তথ্য ভান্ডার যেখানে ওয়েবসাইট সম্পর্কিত সমস্ত নথি এবং ওয়েব Page গুলি URL (Uniform Resource Locator) দ্বারা চিহ্নিত করা হয়। সেখানের সমস্ত নথিপত্র দেখতে ইন্টারনেটের এর মাধ্যমে প্রবেশ করতে হয় এবং হাইপারটেক্সট লিঙ্ক দ্বারা সংযুক্ত করা হয়।
সংক্ষেপে বলা যায়, World Wide Web হলো একটি স্টোরেজ সিস্টেম যেখানে বিশ্বের সমস্ত ওয়েবসাইট সংরক্ষণ করা হয়।

আমরা অনেকেই মনে করি যে, www এবং ইন্টারনেট একই জিনিস। কিন্তু www এবং ইন্টারনেট কিন্তু দুটি ভিন্ন বিষয়। ইন্টারনেট একটি বিশাল  নেটওয়ার্ক যা বিশ্বব্যাপী লক্ষ লক্ষ কম্পিউটারকে সংযুক্ত করে।

WWW হল ইন্টারনেট ব্যবহার করার জন্য সর্বাধিক ব্যবহৃত সিস্টেম। ওয়েব এর মত ইন্টারনেটে এমন অনেক পরিসেবা রয়েছে যেমন: ইমেইল।

চলুন এবার তাহলে ওয়াল্ড ওয়াইড ওয়েব নিয়ে কিছু মজার তথ্য জেনে নেই-

  1.  টিম বার্নার্স-লি 1989 সালে ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েব আবিষ্কার করেছিলেন। CERN- এ কাজ করার সময়, তিনি একটি NeXT কম্পিউটার ব্যবহার করে WWW এর জন্য কোড লিখেছিলেন, হাইপারলিঙ্ক ব্যবহার করে বিশ্বজুড়ে গবেষকদের মধ্যে নথিপত্র শেয়ার করার জন্য।
  2. জানুয়ারি ২০২১ এর এক রিপোর্ট অনুযায়ী প্রায় 4.66 বিলিয়ন মানুষ ইন্টারনেট ব্যবহার করে যা বিশ্বের জনসংখ্যার ৫৯.৫ শতাংশ। [সূত্র]
  3. CERN- এ বিশ্বের প্রথম ওয়েবসাইট ৬ আগস্ট, ১৯৯১ সালে অনলাইনে চালু হয়। তখন শুধুমাত্র বার্নার্স-লি এবং তার সহকর্মীদের ব্রাউজার ছিল এবং ফলে শুধু তারাই এটি ব্যবহার করতে সক্ষম ছিলেন।[সূত্র]
  4. বর্তমানে বিশ্বে প্রায় 1.21 বিলিয়ন ওয়েবসাইট রয়েছে। [সূত্র]
  5. ইন্টারনেটে প্রথম ছবি আপলোড করার কৃতীত্ব ও বার্নার্স-লি -এর দখলে। ১৯৯২ সালে তিনি সেই ছবিটি ইন্টারনেটে আপলোড করেন। ছবিটি ছিল CERN কর্মচারীদের দ্বারা প্রতিষ্ঠিত প্যারোডি পপ ব্যান্ড Les Horribles Cernettes এর ছবি।
    ওয়াল্ড ওয়াইড ওয়েব (www) Les Horribles Cernettes, First picture on internet.
    Les Horribles Cernettes, First picture on internet.

     

  6. মোট ১.৩২ বিলিয়ন মানুষ তাদের মোবাইল ফোনের মাধ্যমে ইন্টারনেট ব্যবহার করে থাকেন। যা মোট ব্যবহারকারীর ৯২.৬ শতাংশ। [সূত্র]
  7. www ১৯৮৯ সালে আবিষ্কার হলেও, প্রথম ইমেইল আদান-প্রদান কিন্তু তার অনেক আগেই হয়েছিল।1971 সালে প্রথম ইমেইল পাঠিয়েছিলেন কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার রে টমলিনসন পাঠিয়েছিলেন।মজার ব্যাপার হচ্ছে তিনি ক্যামব্রিজে বসে এই ইমেইলটি নিজের কাছেই পাঠিয়েছিলেন। তবে সেটা ছিল তার বসা কম্পিউটার থেকে পাশের কম্পিউটারে। নিজের কাছে পাঠানো ইমেইলটিতে তিনি বলেছিলেন “QWERTYUIOP এর মত কিছু”।এটি ARPANET- এর মাধ্যমে পাঠানো হয়েছিল,  যা ইন্টারনেটের অগ্রদূত একটি কম্পিউটারের নেটওয়ার্ক ছিল।

যখনই কোনও ব্যবহারকারী তাদের ওয়েব ব্রাউজাররের এড্রেস বারে একটি URL লেখে যেমন www.songbadporun.com। তখন সার্ভারটি এই নির্দিষ্ট URL এর IP Address ব্রাউজারে পাঠিয়ে দেয়। যখন ব্রাউজারটি সেই IP Address পায়, তখন ব্রাউজারটি HTTP প্রোটোকলের মাধ্যমে ওয়েব পেজের  জন্য ওয়েব সার্ভারে অনুরোধ পাঠায়l

তারপরে ওয়েব সার্ভারটি HTTP প্রোটোকলের মাধ্যমে অনুরোধটি গ্রহণ করে এবং তারপর ওয়েব সার্ভারে Page  উপস্থিত থাকলে অনুরোধকৃত ওয়েব পেজটি  অনুসন্ধান করে তবে এটি ওয়েব ব্রাউজারের প্রতিক্রিয়া জানায়। তারপর Browser টি সেই ওয়েব পেজটি লোড করে এবং এটি লোড করার পরে, এটির কোডটি ব্যাখ্যা করে এবং ওয়েব পেজটি  প্রদর্শন করে।

HTTP, ব্রাউজার এবং ওয়েব সার্ভার একে অপরের সাথে এই যোগাযোগ ইন্টারনেটের মাধ্যমে করে।

আরো পড়ুনঃ ঢাকার সর্বপ্রথম মসজিদ সম্পর্কে জেনে নিন।

আরো পড়ুনঃ বাংলার সুয়েজ খাল খ্যাত গাবখান চ্যানেল সম্পর্কে জেনে নিন।

আপনার মন্তব্য জানাবেন

দয়া করে আপনার মন্তব্য লিখুন !
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন