ক্রিপ্টোকারেন্সির দুনিয়ায় বিরাট সাইবার আক্রমণ, তিরষ্কারের বদলে পুরষ্কারের প্রস্তাব হ্যাকারকে!

ক্রিপ্টোকারেন্সির ইতিহাসে সবচেয়ে বড় চুরির ঘটনা ঘটল।পলি নেটওয়ার্কের ৬০০ মিলিয়ন ডলার ক্রিপ্টোকারেন্সি চুরি করে নিল হ্যাকাররা।

ক্রিপ্টোকারেন্সি নিয়ে এমনিতেই দুনিয়ায় হইচই সর্বদা লেগে থাকে। কখনো এর দাম আকাশ ছুঁইয়ে যাচ্ছে তো কখনো ঝড়ের বেগে মাটিতে আছড়ে পড়ছে। ক্রিপ্টোকারেন্সি মধ্যে এনক্রিপশন রয়েছে যা ডিজিটাল সিকিওরিটিতে খুব জরুরী। দু একটা ঘটনা ঘটলেও দিনদিন ক্রিপ্টোকারেন্সির সুরক্ষাবলয় আরও শক্তিশালী হচ্ছিল। মনে করা হত ক্রিপ্টোকারেন্সি চুরি করা বা প্রতারণা সম্ভব নয়।

সেই শক্তিশালী সুরক্ষা বলয়কেই জোড়ালো ধাক্কা দিয়ে ক্রিপ্টোকারেন্সির ইতিহাসে স্বরণকালের বৃহত্তম চুরি করে ফেললো হ্যাকাররা। যার পরিমাণ ৬০০ মিলিয়ন ডলার অর্থাৎ বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ৫০০০ হাজার কোটি টাকা।

20210815 123300
হ্যাকারদের উদ্দেশ্যে পলি নেটওয়ার্কের বিবৃতি।

টুইট করে হ্যাকারদের উদ্দেশ্যে পলিনেটওয়ার্কের পক্ষ থেকে জানানো হয়, যে টাকা তারা চুরি করেছে তার পরিমাণ বিপুল। ক্রিপ্টো কমিউনিটির হাজার হাজার সদস্যের বিনিয়োগ রয়েছে সেখানে।আলোচনা সাপেক্ষে বিষয়টি সমাধান করতে চায় সংস্থাটি।

গত মঙ্গলবারের এই ঘটনার পর থেকে হ্যাকারের বক্তব্য, নিরাপত্তায় যে কতটা ফাঁক রয়েছে সেটা দেখাতেই তিনি এ কাজ করেছেন। তবে এই টাকার প্রতি তিনি আগ্রহী নন।

বিবিসি জানিয়েছে, শুক্রবার সকাল পর্যন্ত ৩৪ কোটি ডলারের ক্রিপ্টো টোকেন ফেরত দিয়েছে হ্যাকার।

এদিকে হ্যাকারের দাবি, ক্রিপ্টো টোকেন ফিরিয়ে দেওয়ার বদলে পাঁচ লাখ ডলার অর্থ পুরস্কার এবং অপরাধ থেকে তার সম্পূর্ণ দায়মুক্তির প্রস্তাব দিয়েছে পলি নেটওয়ার্ক।

“আমরা আপনাকে নিশ্চয়তা দিচ্ছি যে এই ঘটনার জন্য আপনাকে দায়ী করা হবে না।”— পলি নেটওয়ার্ক এমনটাও বলেছে বলে দাবি হ্যাকারের।

পলি নেটওয়ার্কের এমন পদক্ষেপে খেপেছেন সাইবার নিরাপত্তা জগতের অনেকে। হ্যাকার হোয়াইট হ্যাটের অজুহাত তুলে অপরাধের দায় এড়ানোর চেষ্টা করছে বলে মনে করছেন তারা।

পলি নেটওয়ার্কের পুরস্কার ও দায়মুক্তির প্রস্তাব নেতিবাচক দৃষ্টিতে দেখছেন এফবিআই ও মার্কিন বিচার বিভাগের সাবেক কর্মী চার্লি স্টিলও।

“আইনী প্রক্রিয়া থেকে অপরাধীকে দায়মুক্তির প্রতিশ্রুতি দেওয়ার অধিকার কোনো ব্যক্তিমালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের নেই” –মন্তব্য করেছেন তিনি।

২০১৮-তে ৫৩ কোটি ডলার ডিজিটাল কয়েন চুরি হয়েছিল টোকিয়োর “কয়েনচেক” নামে একটি সংস্থার। সেটি ছিল এত দিন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় মাপের চুরি।

 

আপনার মন্তব্য জানাবেন

দয়া করে আপনার মন্তব্য লিখুন !
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন