করোনায় বাড়লো মাথাপিছু আয় ও বেকারত্ব । Per Capita Income of Bangladesh has increased । 2021

করোনা মহামারীতে বিশ্বব্যাপী ভয়াবহ অর্থনৈতিক বিপর্যয় হলেও বাংলাদেশে এর উলটো চিত্র দেখা যাচ্ছে। সদ্য সমাপ্ত অর্থবছরে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সাময়িক হিসাব অনুযায়ী বাংলাদেশের জনগনের মাথাপিছু আয় গত অর্থবছরের(২০১৮-১৯) তুলনায় ১০ শতাংশ বেড়ে ২ হাজার ২২৭ মার্কিন ডলার হয়েছে।

আজ বিবিএস ২০২০-২১ অর্থবছরের সাময়িক আর এর আগের অর্থাৎ ২০১৯-২০ অর্থবছরের চূড়ান্ত জিডিপির হিসাব প্রকাশ করেছে। এই হিসাব অনুযায়ী ২০১৯-২০ অর্থবছরে পুর্বের অর্থবছরের তুলনায় মাথাপিছু আয় প্রায় ২২৩ ডলার বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০১৯-২০ অর্থবছরে মাথাপিছু আয় ছিল ২০২৪ মার্কিন ডলার।

সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগের সন্মানীত ফেলো মুস্তাফিজুর রহমান ডেইলি স্টার এর সাথে এক সাক্ষাৎকারে বলেন,

স্বল্প জিডিপি প্রবৃদ্ধির মধ্যেও আয় বৈষম্য বেড়েছে। ফলে গরিবসহ অনেকেই নতুনভাবে দরিদ্র হয়েছেন। তাদেরকে দারিদ্র্য থেকে টেনে তুলতে সরকারকে লক্ষ্যভিত্তিক কর্মসূচি নিতে হবে।

উনার এই উক্তি দ্বারা ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে যে করোনা মহামারিতে ধনীদের আয়ের উর্ধ্বগতি দেশের মাথাপিছু আয় বৃদ্ধিতে ব্যাপক ভুমিকা রেখেছে।

বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রধান উৎস রেমিটেন্স ও গার্মেন্টস। গার্মেন্টস খাতে এর বিরুপ প্রভাব পড়েছে যার কারনে অনেকটা বাধ্য হয়েই করোনায় লক ডাউনের মধ্যেই গার্মেন্টস চালু রাখা হয়েছে। এছাড়া রপ্তানী ক্ষেত্রেও বাংলাদেশের লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় আয় কমেছে প্রায় সাড়ে ৫ ভাগ, বেড়েছে টেক্সটাইলে প্রবৃদ্ধি।  কৃষিখাতে রপ্তানী আয় বেড়েছে ১৯ শতাংশ যা গত দশ বছরের তুলনায় আড়াইগুন বেড়েছে।

মহামারিতে কর্মক্ষেত্রে বিরুপ পরিবর্তন এসেছে। বিআইডিএস এর তথ্য অনুযায়ী গত বছর করোনায় ১ কোটি ৬৪ লাখ লোকের আয় কমেছে এবং বেকারের পরিমান বেড়েছে প্রায় ১০ শতাংশ।

পার্শ্ববর্তীদেশ ভারতে করোনা মহামারিতেই শীর্ষ ধনীদের সম্পদ প্রচুর পরিমানে বেড়েছে আর নতুন দরিদ্রের সংখ্যা হয়েছে আকাশ্চুম্বী। এই করোনা মহামারীতেই ভারতে নতুন দরিদ্রের সংখ্যা বেড়েছে প্রায় সাড়ে সাত কোটি।

বাংলাদেশের মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি ইতিবাচক হলেও তা কি দেশের জনসাধারনের জন্য ভালো কোনো ইঙ্গিত বয়ে এনেছে ? প্রশ্নটা থেকেই গেলো।

চাকরির বিজ্ঞপ্তি 

2 মন্তব্য

আপনার মন্তব্য জানাবেন

দয়া করে আপনার মন্তব্য লিখুন !
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন