লজ্জিত প্রস্থানকে পলায়ন মানতে নারাজ যুক্তরাষ্ট্র, বাইডেনের পদত্যাগ দাবি ট্রাম্পের

যুক্তরাষ্ট্র নেতৃত্বাধীন বাহিনীর কাছে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার ২০ বছর পর ফের আফগানিস্তানের ক্ষমতা নিচ্ছে তালেবান।এবার নতুন ইসলামিক আফগানিস্তান গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হবে।

মাত্র তিনদিন আগেও মার্কিন গোয়েন্দাদের পূর্বাভাস ছিল কাবুলে ঢুকতে অন্তত ৩০ দিন সময় লাগবে তালেবানের। কিন্তু রোববারের নাটকীয়তায় পাল্টে যায় পরিস্থিতি।

রোববার (১৫ আগস্ট) সারাদিনই কাবুলের আকাশে উড়তে দেখা গেছে বেশ কিছু মার্কিন হেলিকপ্টারকে। তড়িঘড়ি মার্কিন কর্মকর্তা ও নাগরিকদের সরিয়ে নিতে ছিল এই ব্যস্ততা। ব্যাগ-বস্তা নিয়ে দূতাবাস থেকে মার্কিনিদের গন্তব্য বিমানবন্দর।

20210816 144930
কাবুল দখলে তালিবানের উচ্ছ্বাস।

প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন গত ২১ এপ্রিল ঘোষণা করেন, আগামী ১১ সেপ্টেম্বরের মধ্যেই মার্কিন সৈন্যরা আফগানিস্তান ত্যাগ করবে। সেই থেকেই প্রশ্ন ওঠে, বাইডেন সঠিক সিদ্ধান্ত নিলেন কি না। যাঁরা মনে করেন, এ সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রের জন্য অনাকাঙ্ক্ষিত পরিণতি বয়ে আনবে, কৌশলের বিবেচনায় এভাবে ঘোষণা দেওয়া ঠিক হয়নি, তাঁরা এবং বিস্ময়কর হলেও লক্ষণীয়, যাঁরা দুই দশক ধরে আফগানিস্তানে মার্কিন ও বিদেশি সৈন্যদের উপস্থিতির প্রবল সমালোচনা করে আসছিলেন, তাঁদের একাংশও এখন ক্ষমতায় তালেবানের সম্ভাব্য অধিষ্ঠানের জন্য যুক্তরাষ্ট্রকেই দায়ী করছে।

সৈন্য প্রত্যাহারের এ চুক্তি প্রেসিডেন্ট বাইডেন করেননি, তা সম্পাদিত হয়েছিল তাঁর পূর্বসূরি ডোনাল্ড ট্রাম্পের আমলে।ট্রাম্পের ক্ষমতাসীন সময়েই আফগানিস্তান থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল।

এক বিবৃতিতে রোববার বাইডেনের উদ্দেশে ট্রাম্প বলেন, ‘আফগানিস্তানে যা ঘটতে দিয়েছেন, তাতে অপমানবোধ থেকে তাঁর (বাইডেন) পদত্যাগ করা উচিত।’

 

20210816 144233
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিংকেন।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিংকেন বলেন,নিজেদের দেশকে রক্ষায় আফগান বাহিনীর ভয়াবহ ব্যর্থতা দেখা গেছে গত সপ্তাহে। অথচ গত ২০ বছরে আমরা শত শত কোটি ডলার বিনিয়োগ করেছি তাদের জন্য। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য, তারা প্রতিরোধ গড়তে ব্যর্থ হয়েছে। এই মুহূর্তে স্বাভাবিকভাবেই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হলো আমাদের কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।”

যুক্তরাষ্ট্রের একটা বড় ব্যর্থতা হচ্ছে আফগানিস্তানের এলিটদের দুর্বলতাগুলো মোকাবিলা করতে না পারা। আফগানিস্তানের এলিটদের এক বড় অংশ, বিশেষ করে যাঁরা গত দুই দশক ক্ষমতায় ও ক্ষমতার কাছাকাছি থেকেছেন, তাঁরা অত্যন্ত সংকীর্ণ বা প্যারোকিয়াল, বহুধাবিভক্ত ও দ্বন্দ্বে লিপ্ত এবং দুর্নীতিপরায়ণ। এসব বৈশিষ্ট্য আফগান জনগণের এক বড় অংশের কাছে ক্ষমতাসীনদের অগ্রহণযোগ্য করে তুলেছে। 

তড়িঘড়ি করে নিজেদের সৈন্যদের সরিয়ে নেয়ার চেষ্টা করলেও এই প্রস্থানকে পলায়ন মানতে নারাজ যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিনিদের মতে এখন তাঁদের সর্বোচ্চ গুরুত্বের জায়গা হলো নিজেদের সৈন্যদের সরিয়ে নেয়া।

 

আপনার মন্তব্য জানাবেন

দয়া করে আপনার মন্তব্য লিখুন !
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন