সৌদির আরাফার দিনেই আরাফার রোজা?

ইসলামের অন্যতম প্রধান স্তম্ভ হজ। এর ৩টি ফরজের মধ্যে অন্যতম হলো ৯ই জিলহজ আরাফার ময়দানে অবস্থান।

আবু কাতাদা (রা.) থেকে বর্ণিত রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘আরাফার দিনের রোজার ব্যাপারে আমি আল্লাহর কাছে আশাবাদী যে তা বিগত এক বছর ও আগত এক বছরের গুনাহকে ক্ষমা করিয়ে দেবে।’ (মুসলিম, হাদিস ১১৬২)

  • আরাফার দিনের রোজার ব্যাপারে মতানৈক্যের জায়গাটা এখানেই।আরাফার দিন বলতে কোন দিন? হাজীদের আরাফার দিনে অবস্থানের দিন নাকি নিজে যে ভৌগোলিক অবস্থানে আছি সেইখানের জিলহজ্জের ৯ম তারিখ?
    ইসলামিক স্কলাররা এই ইখতিলাফি মাসআলার বিষয়ে একটি চমৎকার পরামর্শ দেন। যাতে করে আমলের ক্ষেত্রে কোনো ঘাটতি না হয়।তার আগে জেনে নেই সঠিক মাসআলা এবং এ বছর কবে রাখবো আরাফার রোজা।
  • প্রথমত, হাদিসে ইয়াওমে আরাফা বা ‘আরাফার দিনের রোজা’ রাখার ব্যাপারে বিশেষ গুরুত্ব ও ফজিলত বর্ণিত হয়েছে।হযরত হাফসা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত- রাসুলুল্লাহ(সা.) জিলহজের নবম দিন সিয়াম পালন করতেন এবং সিয়াম পালন করতেন আশুরার দিনে৷  (সুনানে আবু দাউদ, নাসায়ী, মুসনাদে আহমাদ।
  • উপরোক্ত  হাদিসের বর্ণনায় বিষয়টি স্পষ্ট যে, ‘ইয়াওমে আরাফা’ বা আরাফার দিন হল সব জনপদের নিজ নিজ হিজরি তারিখ হিসেবে ৯ই জিলহজ, ৮ই জিলহজ নয়!অর্থাৎ আপনি যেই ভৌগলিক অবস্থাতে আছেন সেইখানের ৯ই জিলহজ।কারণ এই রোজা আরাফা বা আরাফায় অবস্থান সংক্রান্ত আমল নয়।বরং ৯ তারিখের বিশেষ আমল।  কাজেই আমাদের দেশের হিসেবে ৮ জিলহজ সৌদি আরবে হাজীদের আরাফায় অবস্থান হলেও আমরা রোজা রাখব ৯ তারিখেই।
  • দ্বিতীয়ত, ‘ইয়াওমে আরাফা’ হচ্ছে ৯ জিলহজের পারিভাষিক নাম।
    যেহেতু হজের প্রধান রোকন ‘আরাফায় অবস্থান’ তারিখ হিসাবে ৯ জিলহজে আদায় করা হয়, তাই এ তারিখেরই নাম পড়ে গেছে ‘ইয়াওমে আরাফা’ বা আরাফার দিন।
    এ কারণে যেসব আমল আরাফা বা আরাফায় অবস্থানের সঙ্গে বিশেষভাবে সংশ্লিষ্ট নয়; বরং জিলহজের ৯ তারিখের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট, সেগুলোকেও ‘ইয়াওমে আরাফা’ বা আরাফার দিনের আমল হিসেবে উল্লেখ করা হয়ে থাকে।
    তাই ৯ জিলহজের রোজাকে আরাফার দিনের রোজা হিসেবে অভিহিত করা হয়।
  • তৃতীয়ত, ইয়াওমে আরাফা বা আরাফার দিন যে ৯ জিলহজ এর আরেকটি দৃষ্টান্ত হলো- ‘তাকবিরে তাশরিক’ সংক্রান্ত হাদিস।
  • এটি আরাফা বা হাজীদের আরাফায় অবস্থানের সঙ্গে সম্পৃক্ত কোনো বিশেষ আমল নয়। এটি শুরু হয় ৯ জিলহজ ফজর থেকে।
    অথচ যে দলিল দ্বারা ৯ তারিখ থেকে তাকবিরে তাশরিক শুরু হওয়া প্রমাণিত তাতেও ‘ইয়াওমে আরাফা’ আরাফার দিন শব্দই আছে।আলী রাদিআল্লাহু আনহু বর্ণনা করেছেন- রাসুলুল্লাহ (সা.) ইয়াওমে আরাফা বা আরাফার দিন (৯ জিলহজ) ফজরের পর থেকে ১৩ জিলহজ আসর পর্যন্ত তাকবিরে তাশরিক পাঠ করতেন। (মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা, হাদীস: ৫৬৭৭)
  • এখানেও ‘ইয়াওমে আরাফা’ অর্থ ৯ জিলহজ বিষয়টি প্রমাণিত এবং এর স্বপক্ষে দলিলও উপরোক্ত এই হাদিস।কাজেই আমরা বিচ্ছিন্ন কথাতে বিভ্রান্ত না হয়ে  আগামী ২০ জুলাই মঙ্গলবার (২০২১) জিলহজের এই ফজিলতপূর্ণ রোজা রাখার নিয়ত করি।

এখন আসি আপনাদের প্রতিক্ষিত অংশে।

হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘জিলহজের ১০ দিনের ইবাদত আল্লাহর নিকট অন্য দিনের ইবাদতের তুলনায় বেশি প্রিয়, প্রতিটি দিনের রোজা এক বছরের রোজার মতো আর প্রতি রাতের ইবাদত লাইলাতুল কদরের ইবাদতের মতো’ (তিরমিজি, খণ্ড-১, পৃষ্ঠা: ১৫৮)।

জিলহজের প্রথম দশ দিন অতি বরকতপূর্ণ।আল্লাহ তা’য়ালার পক্ষ থেকে মুমিনদের জন্য বিশেষ উপহার। এজন্য ইসলামিক স্কলাররা পরামর্শ দেন  ৯ই জিলহজের পাশাপাশি ৮ই জিলহজ রোজা রাখতে।এতে করে আরাফার দিনের বরকতও পাবো সাথে আল্লাহর প্রিয় কবুলকৃত হাজীদের সাথেও সাদৃশ্যতা রক্ষা করতে পারবো।বোনাস হিসেবে প্রতিটি রোজায় রাসুলুল্লাহ(সা.) বর্ণিত ১ বছরের রোজার সওয়াবেরও অংশীদার হবো।

  • আল্লাহ আমাদের সবাইকে বোঝার এবং আমলের তাওফিক দান করুন আমিন।

আপনার মন্তব্য জানাবেন

দয়া করে আপনার মন্তব্য লিখুন !
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন