কৃত্রিম বৃষ্টিপাতের আয়োজন সংযুক্ত আরব আমিরাতে

কোনো একটি এলাকায় কৃত্রিম বৃষ্টির মাধ্যমে বার্ষিক গড় বৃষ্টিপাত ১০%-২০% বাড়ানো সম্ভব।

মধ্যপ্রাচ্যের দেশ সংযুক্ত আরব আমিরাত পৃথিবীর অন্যতম শুষ্কতম অঞ্চল।এখানে বছরে মাত্র ১০ থেকে ১৫ বার বৃষ্টি হয়। যা পরিমাণে মাত্র ১৩০ মিলিমিটার।প্রয়োজনের তুলনায় এটি খুবই কম।এজন্য সংযুক্ত আরব আমিরাত কৃত্রিম বৃষ্টিপাত প্রকল্প হাতে নেয়।

কৃত্রিম বৃষ্টিপাত হলো প্রকৃতির ওপর বৈজ্ঞানিক প্রভাব খাটিয়ে সংঘটিত জোর করে বৃষ্টি নামানো। এ জন্যে প্রথমে মেঘ সৃষ্টি করতে হয়। দ্বিতীয় পর্যায়ে এই মেঘকে ঘনীভূত করে বৃষ্টিপাতের উপযোগী অবস্থায় নিয়ে আসতে হয় এবং সবশেষে বৃষ্টি ঝরানো হয়। তবে সচরাচর আকাশে ভাসমান মেঘকে পানির ফোঁটায় পরিণত করেই কৃত্রিম বৃষ্টিপাত ঘটানো হয়।

সংযুক্ত আরব আমিরাতে উন্নত প্রযুক্তি ক্লাউড সিডিং অপারেশনের মাধ্যমে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ বাড়ানোর চেষ্টা চলছে।আবহাওয়া বিভাগের পূর্বাভাস অনুযায়ী একটি বিশেষ দল মেঘের পরিমাণ ও গতিবিধির উপর নজর রাখে।

20210726 200751

লবণ, সোডিয়াম ও পটাশিয়াম ক্লোরাইডসহ অন্যান্য রাসায়নিক উপাদান দিয়ে তৈরি হয় ক্লাউড সিডিং। ক্লাউড সিডিংয়ের উপাদানগুলো উপযুক্ত স্থানে উড়োজাহাজে করে অথবা বিশেষ যন্ত্রের মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়া হয়।যা মেঘের পানির ঘনত্ব বাড়িয়ে দেয়।এর ফলে বৃষ্টিপাত ঘটে।ক্লাউড সিডিংয়ের সময় মেঘের ভেতরের তাপমাত্রা -২০ থেকে -৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে আসেন তখন তুষারপাত বেড়ে যেতে পারে। এরকম পরিস্থিতিতে সিলভার আয়োডাইডের মতো রাসায়নিক ব্যবহার করা হয়।

 

আরব আমিরাতই প্রথম দেশ নয় যারা ক্লাউড সিডিং প্রযুক্তি ব্যবহার করছে।এর আগে অনেক দেশ এ প্রযুক্তি ব্যবহার করেছে।২০০৮ সালে বেইজিং অলিম্পিক গেমসের ঠিক আগে ক্লাউড সিডিংয়ের মাধ্যমে বৃষ্টি ঝরিয়েছিল চীন, যাতে পুরো আয়োজন বৃষ্টির কারণে বিঘ্নিত না হয়।  চীনই সবচেয়ে বেশি কৃত্রিম উপায়ে বৃষ্টি ঝরায়।

20210726 201136

আরব আমিরাতের বানিজ্য নগরী ডুবাইতে অনেক আগে থেকেই সমুদ্রের লবণাক্ত পানি থেকে সুপেয় পানি তৈরির প্লান্ট চালু করা হয়েছে। তবে এতে বিদ্যুৎ ব্যবহারের কারণে পানির উৎপাদন খরচ অনেক বেশি। দেশটি কৃত্রিম বৃষ্টি তৈরির মধ্য দিয়ে আবহাওয়ার সুষ্কতা কমানোর পাশাপাশি নিজেদের সুপেয় পানির উৎপাদন বাড়াতে সক্ষম হয়েছে ।

আপনার মন্তব্য জানাবেন

দয়া করে আপনার মন্তব্য লিখুন !
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন