DNA ভ্যাকসিন মানবদেহে জরুরি ব্যবহারের জন্য অনুমতি দিয়েছে ভারত। এই ভ্যাকসিনটি হবে মানবদেহে ব্যবহার করা বিশ্বের প্রথম DNA ভ্যাকসিন। ভারতের ঔষুধ প্রস্তুতকারক সংস্থা Zydus Cadila প্রতিষ্ঠান এই ভ্যাকসিনটি তৈরি করেছে। তাই প্রশ্ন অনেকের মনেই জাগছে Traditional ভাক্সিনের ও DNA ভ্যাকসিনের পার্থক্য কি??

20210821 175724

DNA ভ্যাকসিনকে বলা হয় থার্ড জেনারেশন ভ্যাকসিন। সনাতন পদ্ধতিতে তৈরি ভ্যাকসিনে যেখানে দূর্বল ভাইরাস দেহে প্রবেশ করা করানো হয় সেখানে DNA ভ্যাকসিনে ব্যবহার করা হয় একটি DNA সিকুয়েন্স। যে DNA সিকুয়েন্সটি mRNA তে পরিনত হয় এবং mRNA শরীরের রাইবোজোমে গিয়ে ভাইরাসের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ সৃষ্টি করার জন্য প্রোটিন সৃষ্টি করে।

সনাতন ভ্যাকসিন তৈরি করতে নির্ভর করতে হয় ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া জাতীয় অনুজীবের। ফলে এই প্রক্রিয়া সময়সাপেক্ষ ও ব্যায়বহুল। সেখান থেকেই DNA ভ্যাকসিন এগিয়ে। DNA সিকুয়েন্স তৈরি করতে তুলনামূলক সময় যেমন কম লাগে ঠিক তেমনি সনাতন ভ্যাকসিনের তুলনার এর উৎপাদন খরচ কম।

আরো সুবিধার মধ্যে রয়েছে, DNA ভ্যাকসিন নিম্ন তাপমাত্রায় সংরক্ষণ করতে হয় না। সাধারণ তাপমাত্রা এমনকি উচ্চতাপমাত্রায়ও এই ভ্যাকসিন সংরক্ষণ করা যায়। ফলে সংরক্ষণ ও পরিবহনেও এই ভাইরাস বাড়তি সুবিধা দিবে।

DNA ভ্যাকসিন কি নিরাপদ ?? Traditional ভ্যাকসিন ও DNA ভ্যাকসিনের পার্থক্য কি??

ভারতের ঔষুধ প্রস্তুতকারক সংস্থা Zydus Cadila দাবী করেছে তাদের তৈরি ZyCoV-D ভ্যাকসিনটি Covid-19 এর ডেল্টা ভেরিয়েন্টের বিরুদ্ধেও কার্যকর হবে।Zydus Cadila’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক শারভিল প্যাটেল বলেন,

“কোম্পানি আশা করে আগস্টের মাঝামাঝি পর্যন্ত মাসে ১০ মিলিয়ন ডোজ উৎপাদন করবে। আমরা বর্তমানে শুধুমাত্র আমাদের প্রচেষ্টায় মনোনিবেশ করছি যাতে আমরা ভারতের জন্য ডোজ যথেষ্ট করতে পারি”

এত সুবিধার সাথে DNA ভ্যাকসিনের কিছু সমস্যাও রয়েছে। বিজ্ঞানীদের মতে এটি কোষের DNA কে স্থায়ীভাবে পরিবর্তন করে দিতে পারে। যদিও এই সম্ভাবনা খুবই কম কিন্তু একেবারে নাকচ করা যায় না।
তাই DNA ভ্যাকসিনের চেয়ে RNA ভ্যাকসিন তুলনা মূলক নিরাপদ। কারণ RNA ভ্যাকসিনে সরাসরি mRNA দেহে প্রবেশ করানো হয়, যা পরবর্তিতে প্রোটিন তৈরি করে। ফলে কোষের DNA কে স্থায়ীভাবে পরিবর্তন করার কোনো সুযোগ থাকে না। Pfizer-BioNTech এর তৈরি RNA ভ্যাকসিন Covid-19 এর বিরুদ্ধে 95% কার্যকর। অন্যদিনে Morderna’র তৈরি RNA ভ্যাকসিন 94% কার্যকর।

সবমিলিয়ে ভারতে DNA ভ্যাকসিনের ব্যবহারের সাফল্য কিংবা ব্যর্থতার দিকে তাকিয়ে থাকবে পুরো বিশ্বের গবেষক ও বিজ্ঞানীরা।

সংবাদ পড়ুন: কোন ভ্যাকসিন কতটুকু কার্যকর ? Which Vaccine Is More Effective

সংবাদ পড়ুন: লালার মাধ্যমে হবে ব্যাথামুক্ত ডায়াবেটিস পরীক্ষা। Painless Salivary Diabetics Test

আপনার মন্তব্য জানাবেন

দয়া করে আপনার মন্তব্য লিখুন !
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন